দম্ভনাশানন্দাবর্ত
যখন কোনো ভাবনা এসে চড়াও হ’য়ে
আমাকে বাধ্য করে, --ভাষায় প্রকাশ করতে,-
--আমি আমার ভাষায় প্রকাশ করি, -অর্থাৎ,
--ভাবনামুক্ত হবার চেষ্টায়, -নিজের ভাষায়,-
--বিকট জটলা-পাকানো বিচিত্র অর্থপূর্ণ
এবড়ো-থেবড়ো দলার আকৃতিতে প্রকাশ করি,
-ভাবনাটা প্রকাশ করি
হিজিবিজি খসড়ার আকারে, -যেন ভাবখানা !-
-‘যে-যার মতো ক’রে বুঝে নিক্ ভেবে ভেবে,-’
ভাবনা ছাড় দেয় না সহজে।
-পারি না এড়াতে, -পারি না তাড়াতে,
-ফাঁকি দেবার চেষ্টাতে, -যন্ত্রণাই বাড়ে ॥
মানুষের কাছে মানুষের বোধগম্য ভাষার মাধ্যমে
জট্ খুলে নিয়ে মেলে ধরতে বাধ্য হই।
--ভাবনার প্রকাশ ঘটে অবশেষে।
আর, -প্রকাশিত হ’লেই নিজেকে ধন্য মনে হয়,
--মুছে যায় ভাবনার চড়াও-কালীন যন্ত্রণা ॥
শ্রদ্ধেয় পাঠক, শ্রোতা এবং দর্শকদের সাথে
ভাবনার লেনদেনে যোগাযোগ ঘটে।
সকলে অকৃপণভাবে জ্ঞানদান ক’রে ক’রে
নিজেদের মতো জ্ঞানীসাধারণের পছন্দের বেশে
আমাকেও সাজিয়ে ছেড়ে দেন মুক্ত-সমাবেশে ॥
শুনে শুনে দেখে দেখে প’ড়ে প’ড়ে চেষ্টা করি;
-জ্ঞানীদের অনুসরণে জ্ঞানের পাত্র ভরি,--
-সেই সাথে, -মৌলিক ভাবনার ধারকের গর্ব নিয়ে
প্রকাশিত ভাবনার প্রতি আমার পাঠকের প্রতিক্রিয়া
শোনবার আকাক্সক্ষায় অপেক্ষা করি দম্ভভরে।
-যতক্ষণ আমার স্থির বিশ্বাস থাকে, --
--যে’ ভাবনাটা আমাকে ভাবিয়েছে
সেটা একেবারে নতুন !
এবং আমার আগে আর কেউ ভাবেনি, --
--নিজেকে গর্বিত মনে হয়;
-নতুন কিছুর সৃষ্টির সুখ পাই, -আর, --
-নেশাক্রান্তের মতো ঘোরের মধ্যে
আনন্দ উপভোগ করি।
--আমার সুখানন্দ, --সম্ভবত, --
আর-সকল ভাবুক বা ভাবিতদের মতো ॥
‘ভাবিত’ শব্দটাই নিজের জন্য যথাযথ মনে হয় ॥
ঘোর কেটে গেলে জ্ঞানীগুণীদের মুখোমুখি হই।
পাঠক, দর্শক, শ্রোতৃমণ্ডলী,--
-ভিন্ন ভিন্ন ধারার বিচারক তারা,
--আমার মূল্য ধার্য করে ;
আমিও তৃপ্তিভরে সহ্য করি, আর মুছে যায়
ভাবনায় আক্রান্ত-কালীন যন্ত্রণা ॥
জ্ঞানীদের সঙ্গে যখন জ্ঞান সঞ্চয়ের লক্ষ্যে
সহগামী হই, -আর,--
-কোনোখানে দেখি অথবা শুনি !--
--যে’ ভাবনাটাকে আমি সম্পূর্ণ নতুন ভেবেছি,
এবং তা’ প্রকাশের পর মূল্যায়িত হয়েছি
উদার পাঠকের কাছে !! --অথচ !-
সেই ভাবনাটাই ! -ভিন্ন ভিন্ন জনেও ভেবেছেন !!
-ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন কালে এবং বর্তমানেও
যখন তার সমরূপ প্রকাশ দেখি !
--কিম্বা যখন বুঝি, -নতুন কোনো ভাবনায়
ভাবাক্রান্ত হইনি -!!--
অনাদি-অনন্ত-ভাবনা-চক্র-পরিধিতে আমি,
-বন্দি বেকুব আমি মহাতামাশার পাত্র হয়েছি,
-জেনে, -একা একা হাসি অনেকের মতো
-আর, -সকল ভাবিতদের দশা দেখে দেখে,
-এ-ই ভেবে ভেবে আনন্দ পাই,
-নিশ্চয়ই তারাও পুরাতনকে নতুন মনে করেছিলো ;
--আমার মতোই একা একা হেসেছিলো, -তবে,
--পৌনঃপুনিক কীর্তিগুলো ঢেকে রাখতে পারেনি।
এবং, --প্রকাশিত কর্মগুলো মুছতেও পারেনি,
-বাহুল্য মনে হ’লেও (!!), -মুছে ফেলেনি !--
-মুছে ফেলতে পারেনি সম্ভবত এ-জন্যেই যে,
-সমকালীন ভাষাগুলো সচল পাঠকের সম্পদ;
-যেখানে, -লেখকেরা নিজেদের
জটপাকানো ভাষায় লেখেনি;
বরং, -এঁকেছিলো ! -এঁকেছিলো পাঠকের ভাষায়,
--পাঠকের বোধগম্য চলন্ত ভাষায় ॥
-১০/০৩/২০০৩ খ্রি:
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০০৯
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০০৯
পাঠকের পাঠগড়ায়
পাঠকের পাঠগড়ায়
যখন কোনো পাঠক বলেন,
-‘-দু’-দু’বার পড়লাম, -কিন্তু বুঝিনি ;
-সাধারণ মানুষ আমরা, --আসলে, --
-সকলে অতো গভীরভাবে চিন্তা করি না;
তা’ছাড়া, --ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে ফাঁকে
কখনো বিশ্রাম পেলেও, --
তোমার ভাসা ভাসা হালকা ভাষাগুলোর
লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ভেবে ভেবে তোমার নাগাল,
--তোমার ভাবনার নাগাল পাওয়া যায় না।
-সাজানো শব্দগুলো কমবেশি পরিচিত,
তবুও ! -সংক্ষেপে মর্মার্থ মেলাতে গেলে,
-পাওয়া যায় হিজিবিজি এলোমেলো জটিলতা,-’-
--পাঠকের মন্তব্য শুনে লেখক বুঝতে পারে,
-‘-তার চেষ্টা পুরোপুরি যায়নি বিফলে;
-অসমতলে শব্দের গাঁথুনি, -সোজা না-হ’য়ে,
-স্বাভাবিক ভাবের ভাষা, -যদিও আঁকা বাঁকা,
-ধৈর্যশীল পাঠক লেখকের বক্তব্যের সত্যতা
ঠিক-ই বুঝেছেন, -তবে মেনে নিতে কষ্ট, -
--তা-ই, -নিরাপদ মন্তব্যের অবস্থানে,
-চিন্তাশীল ঐ পাঠকের, -
--বুঝেও না-বুঝার ভান ক’রে থাকা ॥’
স্বাধীন পাঠক যেকোনো লেখা পড়েন, -
--প’ড়ে ভাবেন নিজের মতো ক’রে ;
-সকল দিক থেকে সাজিয়ে নিয়ে নিয়ে ভাবেন।
তবে, -জীবিকার বাহানায় ব্যস্ত মানুষ, -
সমালোচনায় ব্যয় করার মতো সময় না-পেয়ে, -
অখ্যাত কোনো লেখকের যন্ত্রণা এড়াতে, --
দয়ালুরূপে দাঁড়িয়ে কৌশলে
উৎসাহ দেবার ছলে যখন বলেন, -
-‘দারুণ সুন্দর লেখা!-’ --
--ঐ মন্তব্যকারী যে মনোযোগী নন,
-তা’ বুঝতে কোনো সাধারণ লেখককে
বুদ্ধি খাটাতে হয় না ॥
দ্বন্দ্বহীন লেখকেরা চায়
পাঠকের নিরপেক্ষ রায়।
নিজের সংশোধনকামী হ’তে না-পারলে
হওয়া যায় না সত্য-সন্ধানী লেখক।
পাঠকেরাই মহামান্য বিচারক ॥
লেখকের অবস্থান বিবাদীর কাঠগড়ায়।
লেখক পবিত্র হয় পাঠকের পাঠগড়ায় ॥
রঙ্গপুর - ২৫/০১/২০০২ খ্রি:
গড়পড়তা
সামনে-পিছনে-পার্শ্বে-উপরে-নিচে,
ভিতরে-বাইরে বহুবিধ ‘উপকরণ’-এর
কাল-সাপেক্ষ প্রতিকূল অনুকূল
প্রবণতা, ইন্ধন, বাধা ইত্যাদি
সবকিছুর মিলিত ফলাফল,-
-একটি পঞ্চমাত্রিক বিচিত্র দল,-
-যা’ ঘটনাপ্রবাহ হিসেবে
-ধারাবাহিক-ভাবে চিত্রিত,
নিপুণ ভারসাম্যে সমন্বিত,
-ধ্বংসের এবং সৃষ্টির সমন্বয়, --‘ঘটনাচিত্রদল’॥
সবকিছুর সৃষ্টি হয়েই আছে, -কেবল,-
সাজিয়ে সাজিয়ে নিয়ে দেখাই, -সত্যের সাধনা ॥
ফ্যাসাদকামীর চির অস্থির সুখ, -বিনাশ প্রবণতায় ;
প্রতিপক্ষে, -শান্তিকামীর নিত্য আনন্দ,-
-সৃষ্টি সুন্দর মেনে নিয়ে প্রত্যেকটি ঘটনাচিত্রকে
প্রকাশ্যে স্বীকার করাতে ॥
ঘটনার বাইরে থেকে,-নিজের অবস্থান সাপেক্ষে
ঘটনাচক্রের যে-অংশটুকু দেখা যায়, -তা’থেকে
ঘটনার সম্ভাব্য পূর্ণবিবরণ লিখতে চাইলে,
-লেখককে কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়।
সংখ্যায় যতজন দর্শক, -দৃষ্টিকোণ সমান সংখ্যক ॥
যেকোনো একটি ঘটনাচিত্র,
-দর্শকের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র ভঙ্গির কারণেই
চিত্রণে ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ দেখা যায় ;
--বহু রূপে প্রকাশ না-হওয়াই অসম্ভব ॥
কল্পনা-আশ্রিত যেকোনো একটি লেখা
একা একা প’ড়ে প’ড়ে
-ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্য নিয়ে ঘটনার সম্ভাব্য সত্যতার
কাছাকাছি পৌঁছানো অসম্ভব ॥
সত্যসন্ধানী একজন পাঠককে
একই ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির
কমপক্ষে তিনজন লেখকের ‘লেখা’ পড়তে হয় ;
-এতে, -কোনো বিশেষ ‘দৃষ্টিকোণ’-এর প্রভাবে
প্রভাবিত না-হ’য়ে, -ঘটনার সার্বজনীন সত্যতার
কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব ॥
লেখক, -সংখ্যায় একজন হ’লে,-
-সেক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ‘পরিবেশ’-এর
গড়পড়তা পাঁচজন পাঠকই যথেষ্ঠ ॥
-কল্পনা-আশ্রিত কোনো একটি ‘লেখা’
পাঁচ-পাঠকের পাঠচক্রে ঢুকলে, -সেখান থেকে
একটা সাধারণ সত্য বের হ’য়ে আসে,--
-যা’ অনেকাংশেই সার্বজনীন সত্যের
কাছাকাছি পৌঁছে যায়, -যেখানে লেখক
নিজেও জানে না যে,
-তার অজান্তে কল্পনা তাকে প্রভাবিত ক’রে ক’রে
কোন্ অজানা সত্যের কতখানি প্রকাশ ঘটিয়ে নিয়েছে ॥
লেখকের কোন্ লেখাটা কোনখানে
কোন্ পাঁচ-পাঠকের-পাঠচক্রে
সমালোচিত হওয়ার যোগ্য, -লেখক নিশ্চিতভাবে
নিজে কখনোই জানতে পারে না; -
-যথা, -আফ্রিকার কল্পকাহিনী, -কখনো এশিয়ার
কখনো বা ইউরোপের পাঠচক্রে দৃশ্যমান ॥
যা’ ঘটেছে, শুধু ততটুকুর সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় সীমাবদ্ধ,
-ভিন্নতর কিছু ঘটার সম্ভাবনা নিয়ে
ব্যক্তিগত কল্পনা বর্জিত, -অর্থাৎ,
-ঘটনাচিত্রদল-এর ভিতরে ঢুকে যাওয়া লেখকের
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য-বর্জিত প্রামাণ্যচিত্রধর্মী লেখাগুলো
দলের বাইরে এসে একাকী পড়লে তবেই অর্থময় ॥
ঘটনাচিত্রদলে ঢুকে যাওয়া লেখক-এর লেখাতে
যখন পাঠচক্রে সমালোচিত হওয়ার মতো
কাল্পনিক কিছু থাকে না
--একা একা পড়াতে কিংবা পাঠচক্রে,--
--প্রত্যেকের কাছে তখন ঐ লেখাটি
ভিন্ন ভিন্ন দর্শনময় ॥
-(রঙ্গপুর -১৫/০৫/২০০৩ খ্রি: )
যখন কোনো পাঠক বলেন,
-‘-দু’-দু’বার পড়লাম, -কিন্তু বুঝিনি ;
-সাধারণ মানুষ আমরা, --আসলে, --
-সকলে অতো গভীরভাবে চিন্তা করি না;
তা’ছাড়া, --ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে ফাঁকে
কখনো বিশ্রাম পেলেও, --
তোমার ভাসা ভাসা হালকা ভাষাগুলোর
লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ভেবে ভেবে তোমার নাগাল,
--তোমার ভাবনার নাগাল পাওয়া যায় না।
-সাজানো শব্দগুলো কমবেশি পরিচিত,
তবুও ! -সংক্ষেপে মর্মার্থ মেলাতে গেলে,
-পাওয়া যায় হিজিবিজি এলোমেলো জটিলতা,-’-
--পাঠকের মন্তব্য শুনে লেখক বুঝতে পারে,
-‘-তার চেষ্টা পুরোপুরি যায়নি বিফলে;
-অসমতলে শব্দের গাঁথুনি, -সোজা না-হ’য়ে,
-স্বাভাবিক ভাবের ভাষা, -যদিও আঁকা বাঁকা,
-ধৈর্যশীল পাঠক লেখকের বক্তব্যের সত্যতা
ঠিক-ই বুঝেছেন, -তবে মেনে নিতে কষ্ট, -
--তা-ই, -নিরাপদ মন্তব্যের অবস্থানে,
-চিন্তাশীল ঐ পাঠকের, -
--বুঝেও না-বুঝার ভান ক’রে থাকা ॥’
স্বাধীন পাঠক যেকোনো লেখা পড়েন, -
--প’ড়ে ভাবেন নিজের মতো ক’রে ;
-সকল দিক থেকে সাজিয়ে নিয়ে নিয়ে ভাবেন।
তবে, -জীবিকার বাহানায় ব্যস্ত মানুষ, -
সমালোচনায় ব্যয় করার মতো সময় না-পেয়ে, -
অখ্যাত কোনো লেখকের যন্ত্রণা এড়াতে, --
দয়ালুরূপে দাঁড়িয়ে কৌশলে
উৎসাহ দেবার ছলে যখন বলেন, -
-‘দারুণ সুন্দর লেখা!-’ --
--ঐ মন্তব্যকারী যে মনোযোগী নন,
-তা’ বুঝতে কোনো সাধারণ লেখককে
বুদ্ধি খাটাতে হয় না ॥
দ্বন্দ্বহীন লেখকেরা চায়
পাঠকের নিরপেক্ষ রায়।
নিজের সংশোধনকামী হ’তে না-পারলে
হওয়া যায় না সত্য-সন্ধানী লেখক।
পাঠকেরাই মহামান্য বিচারক ॥
লেখকের অবস্থান বিবাদীর কাঠগড়ায়।
লেখক পবিত্র হয় পাঠকের পাঠগড়ায় ॥
রঙ্গপুর - ২৫/০১/২০০২ খ্রি:
গড়পড়তা
সামনে-পিছনে-পার্শ্বে-উপরে-নিচে,
ভিতরে-বাইরে বহুবিধ ‘উপকরণ’-এর
কাল-সাপেক্ষ প্রতিকূল অনুকূল
প্রবণতা, ইন্ধন, বাধা ইত্যাদি
সবকিছুর মিলিত ফলাফল,-
-একটি পঞ্চমাত্রিক বিচিত্র দল,-
-যা’ ঘটনাপ্রবাহ হিসেবে
-ধারাবাহিক-ভাবে চিত্রিত,
নিপুণ ভারসাম্যে সমন্বিত,
-ধ্বংসের এবং সৃষ্টির সমন্বয়, --‘ঘটনাচিত্রদল’॥
সবকিছুর সৃষ্টি হয়েই আছে, -কেবল,-
সাজিয়ে সাজিয়ে নিয়ে দেখাই, -সত্যের সাধনা ॥
ফ্যাসাদকামীর চির অস্থির সুখ, -বিনাশ প্রবণতায় ;
প্রতিপক্ষে, -শান্তিকামীর নিত্য আনন্দ,-
-সৃষ্টি সুন্দর মেনে নিয়ে প্রত্যেকটি ঘটনাচিত্রকে
প্রকাশ্যে স্বীকার করাতে ॥
ঘটনার বাইরে থেকে,-নিজের অবস্থান সাপেক্ষে
ঘটনাচক্রের যে-অংশটুকু দেখা যায়, -তা’থেকে
ঘটনার সম্ভাব্য পূর্ণবিবরণ লিখতে চাইলে,
-লেখককে কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়।
সংখ্যায় যতজন দর্শক, -দৃষ্টিকোণ সমান সংখ্যক ॥
যেকোনো একটি ঘটনাচিত্র,
-দর্শকের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র ভঙ্গির কারণেই
চিত্রণে ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ দেখা যায় ;
--বহু রূপে প্রকাশ না-হওয়াই অসম্ভব ॥
কল্পনা-আশ্রিত যেকোনো একটি লেখা
একা একা প’ড়ে প’ড়ে
-ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্য নিয়ে ঘটনার সম্ভাব্য সত্যতার
কাছাকাছি পৌঁছানো অসম্ভব ॥
সত্যসন্ধানী একজন পাঠককে
একই ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির
কমপক্ষে তিনজন লেখকের ‘লেখা’ পড়তে হয় ;
-এতে, -কোনো বিশেষ ‘দৃষ্টিকোণ’-এর প্রভাবে
প্রভাবিত না-হ’য়ে, -ঘটনার সার্বজনীন সত্যতার
কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব ॥
লেখক, -সংখ্যায় একজন হ’লে,-
-সেক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ‘পরিবেশ’-এর
গড়পড়তা পাঁচজন পাঠকই যথেষ্ঠ ॥
-কল্পনা-আশ্রিত কোনো একটি ‘লেখা’
পাঁচ-পাঠকের পাঠচক্রে ঢুকলে, -সেখান থেকে
একটা সাধারণ সত্য বের হ’য়ে আসে,--
-যা’ অনেকাংশেই সার্বজনীন সত্যের
কাছাকাছি পৌঁছে যায়, -যেখানে লেখক
নিজেও জানে না যে,
-তার অজান্তে কল্পনা তাকে প্রভাবিত ক’রে ক’রে
কোন্ অজানা সত্যের কতখানি প্রকাশ ঘটিয়ে নিয়েছে ॥
লেখকের কোন্ লেখাটা কোনখানে
কোন্ পাঁচ-পাঠকের-পাঠচক্রে
সমালোচিত হওয়ার যোগ্য, -লেখক নিশ্চিতভাবে
নিজে কখনোই জানতে পারে না; -
-যথা, -আফ্রিকার কল্পকাহিনী, -কখনো এশিয়ার
কখনো বা ইউরোপের পাঠচক্রে দৃশ্যমান ॥
যা’ ঘটেছে, শুধু ততটুকুর সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় সীমাবদ্ধ,
-ভিন্নতর কিছু ঘটার সম্ভাবনা নিয়ে
ব্যক্তিগত কল্পনা বর্জিত, -অর্থাৎ,
-ঘটনাচিত্রদল-এর ভিতরে ঢুকে যাওয়া লেখকের
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য-বর্জিত প্রামাণ্যচিত্রধর্মী লেখাগুলো
দলের বাইরে এসে একাকী পড়লে তবেই অর্থময় ॥
ঘটনাচিত্রদলে ঢুকে যাওয়া লেখক-এর লেখাতে
যখন পাঠচক্রে সমালোচিত হওয়ার মতো
কাল্পনিক কিছু থাকে না
--একা একা পড়াতে কিংবা পাঠচক্রে,--
--প্রত্যেকের কাছে তখন ঐ লেখাটি
ভিন্ন ভিন্ন দর্শনময় ॥
-(রঙ্গপুর -১৫/০৫/২০০৩ খ্রি: )
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)